echo ' বিজেপি-র উত্থানে আতঙ্ক, জনগনে আস্থা হারিয়ে প্রশান্ত কিশোরের স্মরণে তৃণমূল! #PostEdit - The Bengal Express - Bengali News Portal / Bangla khobor / Kolkata 24X7 / Bangla Live / Bengal 24

Header Ads

বিজেপি-র উত্থানে আতঙ্ক, জনগনে আস্থা হারিয়ে প্রশান্ত কিশোরের স্মরণে তৃণমূল! #PostEdit

অরুনাভ সেনঃ বিজেপির ১৮আসন পাওয়ার পর তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসের অভাবটা কিন্তু ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে৷সব নির্বাচনেই যিনিই তৃণমূলের প্রার্থীই হননা কেন মূলত প্রচারের ধরন হয় যিনিই প্রার্থী হন না কেন আসল প্রার্থী তিনি, দলনেত্রী৷সারারাজ্যের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখেই ভোট দেন৷কথাটা একেবারেই মিথ্যে নয়৷কিন্তু তৃণমূলের সাফল্যের এই ইউএসপিতে ধাক্কা লাগারই যেন সঙ্কেত!না হলে কেন প্রশান্তকিশোরের সঙ্গে তৃণমূলের গাঁটছাড়া বাঁধতে হবে?
কেন বিজেপির উত্থানকে সত্যি-সত্যি ভয়ের চোখে দেখছে তৃণমূল৷খবরে প্রকাশ গুজরাত,বিহার,উত্তরপ্রদেশ,অন্ধ্রপ্রদেশ হয়ে রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্তকিশোরের নাকি পরের গন্তব্য বাংলা৷রাজ্যে গেরুয়া সুনামি রুখে ফের তৃণমূলকে ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের লক্ষে পৌঁছে দিতে কাজ করবেন প্রশান্তকিশোর৷কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক সচেতন মানুষের কৌতুহলটা অবশ্য অন্য জায়গায়৷তাদের প্রশ্ন বিজেপির ১৮আসন জয়ের পর তৃণমূলকে কেন নির্বাচণী রণকৌশন নির্ধারন করতে প্রশান্তকিশোরের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে?আসলে খুব সত্যি কথা হল ২০২১-এর বিধানসভায় জয়ের ব্যাপারে তৃণমূলের কর্মী,সমর্থকদের পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাস লাফিয়ে,লাফিয়ে কমছে৷অর্থাৎ কোথাও তৃণমূল নেতৃত্বের রাজ্যের মানুষের প্রতি, আরও বিশদে বললে ভোটারদের প্রতি আস্থা কমছে৷কোনও সন্দেহ নেই,তৃণমূল পরিচালিত সরকারের প্রতি রাজ্যের মানুষেরও আস্থা লাফিয়ে,লাফিয়ে কমেছে৷যদি সত্যিই রাজ্যের মানুষের তৃণমূল সরকারের প্রতি আস্থা অটুট থাকত তাহলে ১৮টি আসনে এভাবে গেরুয়া সুনামি হত না৷প্রশ্ন হল একজন পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্টের পক্ষে আদৌ সেই হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব?প্রশান্তকিশোর ম্যাজিশিয়ান নন,বা তার হাতে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদ্বীপ নেই৷বরং রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা বলছেন যে ভুলগুলো তৃণমূল নিয়ম করে করছিল,সেগুলি সংশোধন করার চেষ্টা করলে রাজ্যে এভাবে গেরুয়া সুনামি হত না৷
অনেকের মতে এই জয় যতনা বিজেপির,তার থেকে বড় জয় মানুষের,বাস্তবিক যারা বিজেপিতে ভোট দিয়েছেন,তারা সত্যিই বিজেপির কট্টর সমর্থক নাকি তৃণমূলের শাসন থেকে নিষ্কৃতি পেতে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন এই প্রশ্নটির মিমাংসা এখনও হয়নি৷ কোনও সন্দেহ নেই রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষ ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিকল্পের সন্ধানে৷বাম-কংগ্রেস জোটকে কিছু মানুষ ভোট দেওয়ার পর তাদের উপলব্ধি তাদের ভোটে জিতে কংগ্রেসের বেশিরভাগ বিধায়ক কিছুদিন পরে দিব্যি তৃণমূলে চলে যাবেন৷বামেরা সংখ্যায় কম হলেও উন্নয়নের ট্রেনে সওয়ার হতে তারাও পিছপা হন নি৷মনেপ্রানে তৃণমূল বিরোধী মানুষেরা জনপ্রতিনিধিদের এই অনৈতিক দলবদলের ঝোঁককে রুখতে চেয়েছেন৷সেইজন্যই তাদের কাছে বিজেপি বিকল্প হয়ে উঠেছে৷কারন তারা মনে করেছেন কেন্দ্রে মোদি সরকার হলে,রাজ্যে বিজেপি কিছু আসন পেলে অন্তত তাদের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তৃণমূলে যোগদানে লাগাম পরানো সম্ভব,অন্তত পক্ষে তাদের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কার্যত তৃণমূলে যোগদান করবেন না৷রাজনৈতিক নেতা,থেকে রাজনৈতিক দলগুলি অনেকক্ষেত্রে সাধারন মানুষকে কখনও,কখনও বেশ বোকা ভাবেন৷কিন্তু গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলেন,২০০৯দেখিয়েছে,২০১১দেখিয়েছে,আবার যেন সেই মানুষই দেখালেন তাদের ক্ষমতা ২০১৯-এ!যে প্রশান্তকিশোরকে নিয়ে এত কথা বলা হচ্ছে তিনি কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যত সাফল্য পেয়েছেন সব জায়গায় সেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার হাওয়া তীব্র ছিল৷
পাঞ্জাবে প্রশান্তকিশোরের কংগ্রেসের হয়ে সাফল্যে যতটা প্রচার হচ্ছে,ততটা প্রশংসা তার প্রাপ্য কিনা সন্দেহের নিরসন হলনা৷সেখানকার অকালি ও বিজেপির জোট সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ছিল প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার হাওয়া৷মানুষ বিকল্প খুঁজছিলেন৷স্বভাবত কংগ্রেসকে মানুষ ফিরিয়ে এনেছে৷অথচ এই প্রশান্তকিশোর কংগ্রেসেহ হয়ে কাজ করতে গিয়ে একেবারে ডাঁহা ফেল করেছেন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে৷মাত্র ৭আসন পায় প্রশান্তকিশোর যাদের হয়ে কাজ করেছিলেন সেই কংগ্রেস৷জগমোহন রেড্ডিকে সাফল্য পাইয়ে দিয়েছেন বলে অনেক কথা প্রচার হচ্ছে৷কিন্তু অন্ধ্রেও টিডিপি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের তীব্র স্রোত বইছিল৷অর্থাৎ পাঞ্জাব,এবং অন্ধ্র যে দুটি জায়গায় প্রশান্তকিশোর সাফল্য পেয়েছেন দুটি রাজ্যেই তিনি সরকার বিরোধী শক্তির হয়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার ভোটে বাজিমাত করেন নি,তার কি আদৌ গ্যারান্টি আছে?নিন্দুক নিশ্চয়ই এই প্রশ্ন ছুঁড়বে৷আবার একই ব্যাক্তি উত্তরপ্রদেশে সপার বিরুদ্ধে বয়ে চলা প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার স্রোত বিজেপির থেকে কেড়ে কংগ্রেসের অনুকূলে আনতে পারেন নি৷ যার নামের পাশে পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট,মেঘনাদের মত উপমা যোগ করা হচ্ছে, অথচ তার সাম্প্রতিক সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান বলছে যেখানে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে সেখানে তিনি দুটি ক্ষেত্রে পাশ করলেও,উত্তরপ্রদেশে ডাঁহা ফেল করেছেন৷কিন্তু বাংলায় প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার চোরাস্রোত যে সুনামিতে রূপান্তরিত হয়েছে তার প্রমান বিজেপির ১৮আসনে জয়৷এখানে প্রশান্তকিশোরের কাজটা কেবল কঠিন নয়,ভীষন কঠিন৷
সত্যি কথা বলতে কি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন প্রশান্তকিশোরের পক্ষে সরকারের বিপক্ষে ভোট দেওয়া রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষের আস্থা অর্জনে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা অত সহজ নয়৷ তারা আরও বলেছেন তৃণমূল রাস্তায় নেমেছে ঠিক,সত্যি কথা৷২০০৯-এ পরিবর্তনের জন্য উদগ্রীব ছিলেন এই রাজ্যের মানুষ,তখন তৃণমূল-কংগ্রেসের জোটের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন৷সেই রায় পরে বিধানসভা নির্বাচনে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ে৷৩৪বছরের বাম শাসনের অবসান হয়৷২০১৬-এর পর থেকেই রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষ তৃণমূলের বিকল্প খুঁজছেন,তাদের কাছে বিকল্প শক্তি বিজেপি,দুই যতই তৃণমূল রাস্তায় নেমে আন্দোলন করুক,তাদের সরকারটা কিন্তু মানুষের কাছে টেষ্টেড,স্বভাবত ২১-এর ভোটে ফের তৃণমূল বিরোধী ঢেউ উঠলে অবাক হবেন না অনেকে৷সেখানে প্রশান্তকিশোর তৃণমূলের জন্য কতটা মুশকিল-আসান হতে পারবেন এমনটা কিন্তু তার সাম্প্রতিক সময়ের পারফরমেন্সের গ্রাফ তার হয়ে কথা বলছে না৷অতএব ভরসা করতে হবে সেই মানুষের প্রতি৷মানুষই ঠিক করবেন ১৯-এর ভোটে কাদের আনবেন ক্ষমতায়,অপেক্ষা করতে হবে সেই পর্যন্ত৷প্রশান্তকিশোর ম্যাজিশিয়ান নন৷তিনি স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে পারেন,কিন্তু জনগনের স্ট্র্যাটেজির কাছে তার স্ট্র্যাটেজি ধোপে টিঁকবে কিনা,প্রশ্নটা রয়েই গেলো৷
Loading...

No comments

Theme images by centauria. Powered by Blogger.